ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক অভিযানে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর দেশে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও ক্রুকে নিয়ে রণতরিটি বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে।
প্রায় নয় মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের সমুদ্র এলাকায় মোতায়েন ছিল আব্রাহাম লিংকন। এর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ওই অঞ্চলে দায়িত্ব নিয়েছে আরেক মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরির উপস্থিতি অব্যাহত থাকছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা রণতরিটির মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও জাহাজটির দেশে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বিদায়ের বার্তায় তিনি নাবিকদের দ্রুত পরিবারের কাছে ফেরার শুভকামনা জানান।
আব্রাহাম লিংকন গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। এরপর ২৭২ দিনের মধ্যে মাত্র দুবার সমুদ্রযাত্রায় বিরতি নেয় রণতরিটি। একবার ডিসেম্বরে গুয়ামে স্বল্প সময়ের জন্য এবং পরে রসদ সংগ্রহের কাজে ওমানে অবস্থান করে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার অংশ হিসেবেই রণতরিটিকে ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছিল। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের কারণে জাহাজের নাবিকদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও বিভিন্ন সমস্যাকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।
বিশেষ করে বাহরাইনের মানামায় মার্কিন নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘাঁটিটি মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
দীর্ঘ ২৭২ দিনের মোতায়েনের প্রায় পুরো সময়ই সমুদ্রে কাটিয়েছেন আব্রাহাম লিংকনের কয়েক হাজার নাবিক। এবার তাদের প্রায় ১৩ হাজার মাইল সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে হবে। আবহাওয়া ও অন্যান্য পরিস্থিতি অনুযায়ী দেশে পৌঁছাতে প্রায় চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
