আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, দেশের বিচারব্যবস্থায় মামলার জট কমিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সংস্কার ও অবকাঠামোগত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুলের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, বিচার বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে ইতোমধ্যে ৫৩৬টি বিচারকের নতুন পদ অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে সহায়ক জনবল নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার সম্প্রতি ৬৫০টি সিভিল জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, ৪০৬টি যুগ্ম জেলা জজ আদালত এবং ২০৪টি অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে। এসব নতুন আদালতের জন্য প্রয়োজনীয় বিচারকের পদ সৃষ্টির বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
আইনমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে মোট ৫ লাখ ৬১ হাজার ৪৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে আপিল বিভাগে ৩৮ হাজার ৭১৩টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৫ লাখ ২২ হাজার ৩৩১টি মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালে এই দুই বিভাগে মিলিয়ে মোট ৬৩ হাজার ৩০৯টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।
এছাড়া চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি। এর মধ্যে প্রায় ১৬ লাখ ৯০ হাজার দেওয়ানি এবং ২৩ লাখ ৮৭ হাজারের বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। গত এক বছরে অধস্তন আদালতগুলোতে মোট ২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৪টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে, যার মধ্যে দেওয়ানি ও ফৌজদারি—উভয় ধরনের মামলাই রয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, নতুন আদালত প্রতিষ্ঠা, বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি, জনবল নিয়োগ এবং বিচারিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের মতো চলমান উদ্যোগগুলো সম্পন্ন হলে মামলার জট ধীরে ধীরে কমবে। এর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আরও দ্রুত ও কার্যকর বিচারসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
