যুক্তরাষ্ট্রে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে এক ইরাকি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা প্রকাশ্যে আসার পর ইরান-সমর্থিত প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রভাব বিস্তারে এসব গোষ্ঠীকে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিরোধীদের লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নির্বাসিত সাংবাদিক মাসিহ আলিনেজাদ-এর নাম উঠে এসেছে।
মোহাম্মদ আল-সাদি নামের ওই ইরাকি নাগরিককে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া কাতায়িব হিজবুল্লাহ-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। তদন্তকারীদের দাবি, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় একাধিক হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞ অ্যারন ওয়াই জেলিন বলেন, এই গোষ্ঠীগুলো আর শুধু আঞ্চলিক সংঘাতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পশ্চিমা দেশগুলোতেও তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত হচ্ছে। তার মতে, এটি ইরানের তথাকথিত “প্রতিরোধের অক্ষ”-এর আন্তর্জাতিক বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর আল-সাদি ইউরোপ ও কানাডায় অন্তত ২০টি হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে, বিশেষ করে উপাসনালয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার ছক কষার অভিযোগও রয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ২০২০ সালে মার্কিন অভিযানে নিহত ইরানি কমান্ডার কাসেম সুলেমানি-র সঙ্গে তার যোগাযোগের প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বেলজিয়াম ও প্যারিস-এ হামলার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলোর দায় প্রথমে অজ্ঞাত একটি গোষ্ঠী নিলেও পরে তা কাতায়িব হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন। আল-সাদি নিজে কোনো দোষ স্বীকার করেননি, আর তার আইনজীবী তাকে ‘রাজনৈতিক বন্দি’ হিসেবে দাবি করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রক্সি গোষ্ঠী নিজস্ব নেতৃত্বে পরিচালিত হলেও তারা সরাসরি ইরানের কৌশলগত নির্দেশনার বাইরে কাজ করে না। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
