ইসলামে জুমার নামাজের মর্যাদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন মুসলমানের জন্য এ দিনটি যথাযথ প্রস্তুতি ও সম্মানের সঙ্গে পালন করা উচিত। আলেমদের মতে, জুমার নামাজের প্রস্তুতি ঘর থেকেই শুরু হয়। গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পোশাক পরিধান করা জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।
গোসল ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর ধীরস্থিরতা, বিনয় ও প্রশান্তি বজায় রেখে মসজিদের উদ্দেশে রওনা হওয়াও সুন্নত। তাড়াহুড়া, বিশৃঙ্খলা কিংবা অন্যকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে। পাশাপাশি, সম্ভব হলে আগেভাগেই মসজিদে পৌঁছানোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কেননা আগে জুমার নামাজে উপস্থিত হলে অধিক সওয়াব লাভের সুসংবাদ রয়েছে।
মসজিদে প্রবেশ করার পর প্রথম কাজ হলো দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামাজ আদায় করা। হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে দুই রাকাত নামাজ আদায় না করে বসবে না। এরপর ইমামের কাছাকাছি ও সামনের কাতারে বসার চেষ্টা করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে অন্য মুসল্লিদের কষ্ট দেওয়া বা মানুষের কাঁধ ডিঙিয়ে সামনে যাওয়ার অনুমতি নেই। জুমার দিনে এমন আচরণকে বিশেষভাবে অপছন্দনীয় বলা হয়েছে।
ইমাম মিম্বরে ওঠার আগ পর্যন্ত মুসল্লিরা নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে সময় কাটাতে পারেন। আলেমরা বলেন, জুমার জন্য যারা আগেভাগে মসজিদে আসেন, তাদের উচিত এ সময়টুকু আল্লাহর ইবাদতে ব্যয় করা।
হাদিসে এসেছে, জুমার দিনে প্রথম ঘণ্টায় আগমনকারী যেন একটি উট কোরবানি করল, দ্বিতীয় ঘণ্টায় আগমনকারী যেন একটি গরু কোরবানি করল। এভাবে ধাপে ধাপে সওয়াবের কথা বর্ণনা করা হয়েছে।
ইমাম যখন মিম্বরে ওঠেন, তখন মুসল্লিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা। এ সময় কথা বলা, অপ্রয়োজনীয় কাজ করা এমনকি পাশের জনকে চুপ থাকতে বলাও নিষিদ্ধ। পূর্ণ মনোযোগ ও অন্তরের উপস্থিতি নিয়ে খুতবা শোনা জুমার নামাজের অন্যতম শর্ত।
খুতবা শেষে ইকামত হলে খুশু ও একাগ্রতার সঙ্গে জামাতে দুই রাকাত জুমার ফরজ নামাজ আদায় করতে হবে । হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল করে, মসজিদে উপস্থিত হয়, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং নামাজ আদায় করে, তার এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়, সঙ্গে অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহও ক্ষমা করা হয়।
নামাজ শেষ হলে নির্ধারিত জিকির ও দোয়া আদায় করা সুন্নত। এরপর ঘরে বা কাজে ফিরে যাওয়া বৈধ। কোরআনে বলা হয়েছে, নামাজ শেষ হলে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করো। তবে জুমার পরের সুন্নত নামাজ আদায় করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুমার সুন্নত আদায়ে অনেকেই অবহেলা করেন, যা ঠিক নয়।
মনে রাখতে হবে, জুমার নামাজ জোহরের বিকল্প নয়; এটি একটি স্বতন্ত্র ফরজ ইবাদত। যথাযথ প্রস্তুতি, আদব ও সুন্নত মেনে জুমা আদায় করলে একজন মুসলমান অফুরন্ত সওয়াব ও আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভের আশা করতে পারেন।
