রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে নতুন করে অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। পর্যটকদের ভ্রমণে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকার মধ্যেই বুধবার (১৪ অক্টোবর) সংগঠন দুটি এ ঘোষণা দেয়। তাদের দাবি, সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আবারও এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

বুধবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি জানান সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এবং সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা।

বিবৃতিতে সংগঠন দুটি জানায়, গত ৮ অক্টোবর উজো বাজারে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশ থেকে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় ১১ অক্টোবর থেকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করা হয়। পরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মসূচি ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হয়। তবে ওই সময় পার হয়ে গেলেও দাবিগুলো বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠন দুটি।

নেতাদের অভিযোগ, সাজেকের মাচালংসহ বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা অবস্থান করছেন। তাঁদের দাবি, এসব সদস্যকে সরিয়ে নেওয়া, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ কারণে এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার দাবিতে পুনরায় অবরোধ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ১১ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ ফেলে এবং প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটক এবং খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের উদ্দেশে রওনা হওয়া যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। পরে ওই দিন বিকেল ৫টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশ্বাসে অবরোধ ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করা হয়।

অন্যদিকে, নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই সোমবার সাজেক ছেড়ে চলে যান সেখানে অবস্থানরত পর্যটকেরা।

এখন নতুন করে অবরোধের ঘোষণা আসায় সাজেকের সড়ক যোগাযোগ আবারও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে পর্যটনকেন্দ্রটি কবে নাগাদ স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন কর্মসূচির বিষয়ে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version