বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় সম্পদের উত্থান-পতন যেন থামছেই না ইলন মাস্কের। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে আবারও বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার মর্যাদা হারিয়েছেন এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তাঁর মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় সম্পদে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাব অনুযায়ী, এক দিনেই তাঁর সম্পদ কমেছে প্রায় ৩ হাজার ৬৩০ কোটি ডলার।

ফোর্বসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বাংলাদেশ সময় বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৭ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। স্পেসএক্সের শেয়ারের দরপতনের কারণে তাঁর সম্পদ প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে যায়। ওই সময় নিউইয়র্কের শেয়ারবাজারে দিনের নিয়মিত লেনদেন শুরু হয়নি; প্রাক্‌-লেনদেন পর্ব চলছিল, যেখানে শেয়ারের দাম ওঠানামা করতে পারে।

শুধু স্পেসএক্স নয়, মাস্কের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারেও দরপতন দেখা গেছে। তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের বড় একটি অংশ এই দুই প্রতিষ্ঠানে থাকা শেয়ারের মূল্যের ওপর নির্ভরশীল। মাস্ক একই সঙ্গে স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া নথির তথ্য অনুযায়ী, স্পেসএক্সে মাস্কের মালিকানা ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে টেসলায় তাঁর অংশীদারত্ব প্রায় ১১ শতাংশ। ফলে এই দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামে পরিবর্তন ঘটলে তাঁর মোট সম্পদের হিসাবেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।

চার দিনের ব্যবধানে সম্পদের নাটকীয় পরিবর্তন

গত কয়েক মাস ধরে ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ এক লাখ কোটি ডলারের কাছাকাছি ওঠানামা করছে। স্পেসএক্সের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও-সংক্রান্ত মূল্যায়নের পর তিনি বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে পরিচিতি পান। কিন্তু পরবর্তী সময়ে শেয়ারের দামে পতন ঘটায় সেই অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

এরপর গত সপ্তাহের শেষ দিকে টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এতে চার দিন আগে আবারও তাঁর সম্পদ এক লাখ কোটি ডলারের সীমা অতিক্রম করে এবং ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা ফিরে পান তিনি। তবে মঙ্গলবারের বাজার পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় সেই অবস্থান আবারও হারাতে হয়েছে তাঁকে।

এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, শেয়ারবাজারে বড় প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন পরিবর্তিত হলে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সম্পদের হিসাবও খুব অল্প সময়ের মধ্যে বদলে যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের সম্পদের বড় অংশ একাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগ করা, তাঁদের ক্ষেত্রে বাজারের ওঠানামার প্রভাব আরও বেশি।

প্রযুক্তি খাতের দরপতনেও চাপ

মঙ্গলবার শুধু স্পেসএক্সের শেয়ারের দামই কমেনি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত চিপ তৈরি করে এমন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারেও বিক্রির চাপ দেখা যায়। এশিয়ার বাজারে দরপতনের প্রভাব পড়ে দক্ষিণ কোরিয়ার এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাং এবং তাইওয়ানের টিএসএমসির শেয়ারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। এনভিডিয়া, ব্রডকম ও ইন্টেলের শেয়ারের দাম কমে যায়। পাশাপাশি দেশটির প্রধান তিনটি শেয়ারসূচক ডাও জোন্স, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং নাসডাকও নিম্নমুখী ছিল। সূচক তিনটির পতনের হার ছিল যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ, শূন্য দশমিক ১ শতাংশ এবং শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।

প্রযুক্তি খাতের এই দুর্বলতার প্রভাব পড়ে জাপানের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংকের ওপরও। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মাসায়োশি সনের সম্পদ এক দিনেই প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার কমে যায়। মঙ্গলবারের হিসাব অনুযায়ী, সম্পদ হারানোর পরিমাণের দিক থেকে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় অবস্থানে।

সব মিলিয়ে, স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের মূল্য পরিবর্তন ইলন মাস্কের সম্পদের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা ফিরে পাওয়া এবং আবার হারানোর ঘটনা বিশ্ববাজারে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারমূল্যের অস্থিরতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। তবে বাজারের পরবর্তী লেনদেনে শেয়ারের দাম বাড়ে নাকি আরও কমে, তার ওপরই নির্ভর করবে মাস্কের সম্পদের পরবর্তী হিসাব।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version