ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আরোপ করা বিভিন্ন বিধিনিষেধ শিথিল করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। জনসাধারণের চলাচল সহজ করতে জরুরি প্রয়োজন নেই—এমন ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ, রেল ও মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১১ অক্টোবর) মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং ট্রেন চলাচল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে দায়ের করা আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠি এ আবেদন করেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রশাসন প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। তবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ও যোগাযোগব্যবস্থা অযথা ব্যাহত করা উচিত নয়।
এর আগে গত ৯ অক্টোবর অন্য একটি মামলার শুনানিতে দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং ট্রেন চলাচল বাতিলের বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা এসেছিল। পরবর্তী পরিস্থিতিতে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে নতুন আবেদন করা হয়।
প্রতিবাদের অধিকার আছে, তবে আইন মানতে হবে
শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ নাগরিকদের প্রতিবাদ করার অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, বিক্ষোভের অধিকার প্রয়োগ করতে হবে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে।
আদালতের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিবাদ করার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও সেই অধিকার প্রয়োগের পদ্ধতি আইনসম্মত হওয়া প্রয়োজন।
আবেদনকারীকে উদ্দেশ করে বিচারপতি বাগচি বলেন, প্রতিবাদের অধিকারকে এমনভাবে দেখা যাবে না, যেন তা পুলিশি আইন ও বিধিনিষেধের ঊর্ধ্বে।
আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রতিবেদন তলব
বিক্ষোভের ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের পরিস্থিতি এবং তাঁদের আটকের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব এবং দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশনকে (ডিএমআরসি) নোটিস দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
আদালতের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল ও যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা এবং বিক্ষোভের সময় আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা।
