জামালপুরের বকশীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে ঢাকা–বকশীগঞ্জ মহাসড়কের নিলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া এলাকায় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় প্রাণ হারান শাশুড়ি উফেজা বেগম ও তাঁর পুত্রবধূ ফরিদা বেগম।

দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাসের চালকের সহকারীকে আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, শনিবার সকালে উফেজা বেগম ও তাঁর পুত্রবধূ ফরিদা বেগম বাড়ির পাশের মহাসড়কের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় খাগড়াছড়ি থেকে ছেড়ে আসা বকশীগঞ্জগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ঠাকুরপাড়া এলাকা অতিক্রম করছিল।

একপর্যায়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই নারীকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।

নিহত উফেজা বেগম ও ফরিদা বেগম নিলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

বাস জব্দ, চালকের সহকারী আটক

দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন। তিনি জানান, হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে এবং এর চালকের সহকারীকে আটক করেছে। তবে বাসচালক পালিয়ে গেছেন।

এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দুর্ঘটনা ঘিরে উঠছে নিরাপত্তার প্রশ্ন

মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দুই নারীর প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এখন পুলিশের তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।

মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও চালকদের সতর্কতা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version