বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি জি-৭ দেশগুলোর জরুরি মজুদ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্তের প্রভাবেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

সোমবার, ৫ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক বাজারের সাম্প্রতিক লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দামও কমেছে। প্রতি ব্যারেলে ৯৫ সেন্ট বা ১ দশমিক ০৩ শতাংশ কমে এর দাম দাঁড়িয়েছে ৯০ দশমিক ১২ ডলারে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে অঞ্চলটির তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বেড়েছে। এই বাড়তি সরবরাহই বর্তমানে দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি করছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জি-৭ দেশগুলোর জরুরি তেল মজুদ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের পর গত শুক্রবার জি-৭ভুক্ত দেশগুলো তাদের জরুরি রিজার্ভ থেকে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ না করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

বাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারদরের ওপর। ফলে একই দিনে ব্রেন্ট ক্রুড এবং ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই কমতে দেখা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলমান থাকা সত্ত্বেও তেলের সরবরাহ বাড়ার বিষয়টি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাধারণত সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয় এবং তার প্রভাবে দাম বাড়তে পারে। কিন্তু এবার তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে জি-৭ দেশগুলোর জরুরি মজুদ থেকেও বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে আসছে।

ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ঘাটতির আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। আর সেই কারণেই তেলের দামে সাময়িক পতন দেখা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version