উয়েফা নেশনস লিগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভয়াবহ এক রাত পার করেছে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। এমন একতরফা পরাজয়ের পর ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ নিজের হতাশা আর লজ্জার কথা প্রকাশ করেছেন।

শনিবার দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই ক্রোয়েশিয়ার ওপর আধিপত্য ধরে রাখে ইংল্যান্ড। একের পর এক আক্রমণে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে ইংলিশরা। শেষ পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে ওঠে সাতটি গোল।

ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যারি কেইন ও বুকায়ো সাকা দুটি করে গোল করেন। এছাড়া অ্যান্থনি গর্ডন, জুড বেলিংহাম এবং মরগান রজার্স একটি করে গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন।

ম্যাচ শেষে মদ্রিচের কণ্ঠে ছিল হতাশা। তার মতে, শুধু বড় ব্যবধানে হারাটাই সমস্যা নয়; বরং পুরো ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়দের মধ্যে লড়াই করার মানসিকতার অভাবই তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে।

মদ্রিচ জানান, আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি তাকে আগে কখনো হতে হয়নি। জাতীয় দলের হয়ে কোনো ম্যাচ শেষে এবারই প্রথম তিনি নিজের পারফরম্যান্স ও দলের খেলায় লজ্জা অনুভব করেছেন বলে জানান এই অভিজ্ঞ ফুটবলার।

তার মতে, ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিপক্ষের সঙ্গে দ্বৈরথে যাওয়ার আগ্রহ, প্রয়োজনীয় আগ্রাসন এবং দলীয় সমন্বয়—কোনোটিই দেখা যায়নি। ফলে ইংল্যান্ড খুব সহজেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।

মদ্রিচের হতাশার আরেকটি বড় কারণ ছিল দলের আত্মসমর্পণের ধরন। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হওয়ায় কোনো ম্যাচে হার আসতেই পারে—এটি তিনি মেনে নিয়েছেন। কিন্তু এত বড় ব্যবধানে এবং কার্যত কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই হেরে যাওয়াকে তিনি কোনোভাবেই স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন না।

ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের দল যে সম্মান ও সুনাম তৈরি করেছে, এমন একটি পারফরম্যান্স সেটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

মদ্রিচ আরও বলেন, ফুটবল খেলায় প্রতিপক্ষের চেয়ে দুর্বল হওয়া মানেই লড়াই ছেড়ে দেওয়া নয়। তার মতে, একজন বা দুজন খেলোয়াড় কম নিয়েও একটি দল লড়াই চালিয়ে যেতে পারে। কিন্তু ওই ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার পরিস্থিতি দেখে মনে হয়েছে, যেন তারা স্বাভাবিক সংখ্যার চেয়েও কয়েকজন খেলোয়াড় কম নিয়ে মাঠে নেমেছিল।

ইংল্যান্ডের আক্রমণের সামনে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগ পুরো ম্যাচেই অসহায় হয়ে পড়ে। আক্রমণভাগও তেমন কোনো কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ফলে একের পর এক গোল হজম করে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় তারা।

এমন ফলাফল ক্রোয়েশিয়ার জন্য শুধু একটি পরাজয় নয়, বরং নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে নতুন করে ভাবার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে দলের অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় মদ্রিচের মন্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এই হার তাদের জন্য কতটা হতাশাজনক।

ম্যাচ শেষে তিনি এটিকে ক্রোয়েশিয়ার জন্য একটি ‘বিপর্যয়কর রাত’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, স্কোরলাইন ৭-০ হওয়াই কেবল তাকে কষ্ট দেয়নি; বরং দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে লড়াইয়ের মানসিকতা অনুপস্থিত থাকাটাই তাকে সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে।

দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অসংখ্য বড় ম্যাচ খেলা মদ্রিচের জন্য এমন অনুভূতি নিঃসন্দেহে বিরল। তাই এই পরাজয় ক্রোয়েশিয়া কীভাবে কাটিয়ে উঠবে এবং পরবর্তী ম্যাচে দল কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version