ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলসহ শেখ পরিবারের নামে থাকা স্থাপনাগুলোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন থেকে বেরিয়ে গেছেন ডাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি। ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ওয়াকআউটের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, সিনেট অধিবেশনে শেখ পরিবারের নামে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এর মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান হল, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার এবং সুলতানা কামাল হোস্টেলের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি ছিল।

অধিবেশনে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা হলেও প্রক্রিয়াটি নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি আবার সিন্ডিকেটে পাঠানোর কথা জানানো হয়। ডাকসু নেতারা এতে আপত্তি জানান এবং শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি তোলেন।

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট হলের নাম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে মতামত তৈরি হয়েছে, তা তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে নিয়মতান্ত্রিকভাবে তুলে ধরেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া এগোলেও শেষ পর্যন্ত আবার সিন্ডিকেটে পাঠানোর সিদ্ধান্তে ডাকসু প্রতিনিধিরা অসন্তুষ্ট হন।

সাদিক কায়েম আরও দাবি করেন, হলের বর্তমান নামের কারণে কিছু শিক্ষার্থী বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পরিচয়জনিত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও মতামত প্রশাসনের বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

সিনেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তার দাবি, নির্দিষ্ট নামের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ বিভিন্ন সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিস্থিতিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নাম পরিবর্তনের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়। সিনেটের আলোচনায় নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবের আগে সিন্ডিকেট পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়াগত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

শেষ পর্যন্ত নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিনেটে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ডাকসুর পাঁচ প্রতিনিধি অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান। তারা হলেন ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এবং সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না।

এর আগে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ডাকসুর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে শেখ পরিবারের নামে থাকা কয়েকটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সিনেটে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সিনেট অধিবেশনে বিষয়টি আলোচনায় এলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বদলে আবার সিন্ডিকেটে পাঠানোর প্রক্রিয়া সামনে আসে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপনার নাম পরিবর্তন, শিক্ষার্থীদের মতামত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version