চলতি অর্থবছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর—এই তিন মাসের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিতেও নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন মুদ্রানীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান নীতি সুদহারসহ বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা ও সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন।

এর আগে জুনে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ছিল ১০ শতাংশ। পরে জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেটি ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনে। এবার অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকেও সেই হার বহাল রাখা হলো।

নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে রাখার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডেপুটি গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় এই হার এখনো তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে বর্তমান মুদ্রানীতির অবস্থানকে সংকোচনমূলক বা টাইট অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

নতুন মুদ্রানীতিতে ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি বা এসএলএফের সুদহার ১১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে ব্যাংকগুলোর রাখা অর্থের বিপরীতে প্রযোজ্য স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি বা এসডিএফের হার আগের মতোই ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ রাখা হয়েছে।

ঋণপ্রবাহের ক্ষেত্রেও নতুন মুদ্রানীতিতে কয়েকটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি আগের মুদ্রানীতির মতোই ৬ দশমিক ৮ শতাংশে রাখা হয়েছে।

সার্বিক অভ্যন্তরীণ ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ২১ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এসব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনীতিতে প্রয়োজনীয় ঋণপ্রবাহ বজায় রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে জুনে মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, মুদ্রানীতি এখন থেকে ছয় মাস বা এক বছরের পরিবর্তে তিন মাস অন্তর পর্যালোচনা ও ঘোষণা করা হবে। সেই ধারাবাহিকতায় অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য এবার নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হলো।

অর্থাৎ, আগামী তিন মাসে দেশের সুদের হার, ব্যাংক ঋণপ্রবাহ এবং সামগ্রিক মুদ্রাব্যবস্থাপনায় বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ রেখেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতিতে ঋণপ্রবাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version