হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ইরানের দেওয়া সাত দিনের প্রস্তাবের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ বা চূড়ান্ত অবস্থান এখনো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের কাছে পৌঁছায়নি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সময় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার পথ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইরানের শর্তগুলো মধ্যস্থতাকারীদের কাছে তুলে ধরা হয়। পরবর্তী সময়ে মধ্যস্থতাকারীরা এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তবে এখনো মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত বার্তা হাতে আসেনি। সেই বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান এবং সেটি পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আরাগচি আরও জানান, ইরানের নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল চালু করা বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির সুযোগ নেই। যদিও এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো অবস্থান তখনও জানানো হয়নি।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা হলে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়ার দাবি জানিয়েছে তেহরান। পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির বন্দরগুলোকে ঘিরে থাকা নৌ অবরোধ বন্ধের কথাও বলা হয়েছে।
ইরানের অবস্থান হলো, এসব পদক্ষেপ নেওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে এনে পরবর্তী পর্যায়ে একটি চূড়ান্ত সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা শুরু করা যেতে পারে।
কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই বর্তমান সংকটের সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন আরাগচি। একই সঙ্গে চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে তার অধিকার থেকে সরে আসতে বাধ্য করা যাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, ইরানের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি তেহরানের শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করার কথা জানান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এর একদিন আগে, শুক্রবার আরাগচি জানিয়েছিলেন, ইরানের শর্তগুলো বাস্তবায়িত হলে সাত দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে যে পদক্ষেপগুলো নিতে হবে, সেগুলোর উল্লেখ জুন মাসে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া সমঝোতার স্মারকলিপিতে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।
