সরকারি চাকরিকে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মজীবনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতার কারণে অনেক তরুণ দীর্ঘ সময় ধরে চাকরির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকছেন। এর ফলে কর্মসংস্থানের বিকল্প সুযোগগুলো কাজে লাগানোর সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক ড. মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘তরুণ সমাজের বেকারত্ব: কারণ, সামাজিক প্রভাব ও সম্ভাব্য সমাধান’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে বসুন্ধরা শুভসংঘের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

আলোচনায় ড. মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব বলেন, তরুণদের বেকারত্বের পেছনে চাকরিনির্ভর মানসিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সরকারি চাকরিকে একমাত্র নিরাপদ ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে দেখার সামাজিক প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য দীর্ঘ সময় প্রস্তুতি নিতে হয়। পাশাপাশি পদসংখ্যা তুলনামূলকভাবে সীমিত হওয়ায় প্রতিযোগিতাও অনেক বেশি। ফলে অনেক তরুণ বছরের পর বছর একটি নির্দিষ্ট চাকরির আশায় অপেক্ষা করেন। এতে তাদের কর্মজীবনে প্রবেশের সময়ও পিছিয়ে যায়।

বেসরকারি খাতকে কম মর্যাদার পেশা হিসেবে দেখার মানসিকতার পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, শুধু চাকরির সন্ধানে না থেকে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা উচিত। একটি নতুন ব্যবসা বা উদ্যোগ একজন উদ্যোক্তার কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি আরও মানুষের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এ জন্য শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়া, নতুন কিছু করার চিন্তা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনায় রাবির সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক মো. তাফহীমুল ইসলাম বলেন, শ্রমবাজারের পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারাও তরুণ বেকারত্বের অন্যতম কারণ। শুধু একাডেমিক ডিগ্রি থাকলেই চাকরি নিশ্চিত হয় না। এর পাশাপাশি সময়োপযোগী ও কর্মবাজারে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করাও জরুরি।

তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে সুযোগের সংখ্যা সীমিত হলেও বিপুলসংখ্যক তরুণ একই ধরনের চাকরির জন্য প্রতিযোগিতা করছেন। তাই ক্যারিয়ার নিয়ে প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে নতুন ক্ষেত্র খুঁজে নেওয়া প্রয়োজন।

প্রযুক্তি, যোগাযোগ দক্ষতা, ইংরেজি ভাষা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো আধুনিক দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, শিক্ষাজীবন থেকেই বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করা গেলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে বসুন্ধরা শুভসংঘের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আলফাজ উদ্দিন টনিক বলেন, তরুণদের বেকারত্ব বর্তমানে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর একটি। এ সমস্যা মোকাবিলায় শুধু সরকারি চাকরির ওপর নির্ভর না করে তরুণদের নিজেদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ, আধুনিক দক্ষতা অর্জন এবং বেসরকারি কর্মক্ষেত্রকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন। তরুণদের কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নিয়মিত গঠনমূলক আলোচনা হলে বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ বের করা সম্ভব।

তরুণদের সচেতনতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের বিকাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বসুন্ধরা শুভসংঘের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আরিফ মিয়া।

আলোচনা সভায় সংগঠনের সহসভাপতি মাহবুবা ইসলাম মেরিনা, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মিরা আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক হিমেল আহমেদ হিমু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোছা. সুমাইয়া খাতুন, দপ্তর সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক শোভা আক্তার, শিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক লক্ষী রানী রায়, ক্রীড়া সম্পাদক শামিম হোসেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক অংক্যজাই মারমা, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক রাসেল শেখসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version