রাজধানীর কদমতলী এলাকায় ইয়ানূর বেগম (২৫) নামে এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের গলি-৬৭০ এলাকার একটি সাবলেট বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী জুয়েলকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কদমতলী থানার উপপরিদর্শক কামরুন নাহার জানান, খবর পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জিএম কাদেরের পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ডান পাশের একটি সাবলেট কক্ষ থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন মাস আগে ইয়ানূর ও জুয়েল ওই বাসাটি ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ হতো। বৃহস্পতিবার রাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। ওই সময় ইয়ানূর মুঠোফোনে বিষয়টি তার মাকে জানিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার সকালে ইয়ানূরের ছোট ভাই মো. ইমাম হোসেন তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোনে সাড়া না পেয়ে তিনি বোনের বাসায় যান। সেখানে গিয়ে দরজায় বাইরে থেকে তালা দেখতে পান। পরে তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে ভেতরে রক্তের দাগ দেখতে পান তিনি।

এরপর ঘরে খোঁজ করে খাটের নিচে ইয়ানূরের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান তার ভাই। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

এসআই কামরুন নাহার বলেন, ইয়ানূরের স্বামী জুয়েল একটি গাড়ির সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করেন। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইয়ানূরের এর আগে আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই সংসারের বিচ্ছেদ ঘটে। আগের স্বামীর সঙ্গে তার পাঁচ বছরের একটি ছেলে রয়েছে, যে বর্তমানে নানা-নানির কাছে থাকে। প্রায় তিন মাস আগে জুয়েলের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেন ইয়ানূর।

ইয়ানূর পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোয়াবাড়িয়া গ্রামের মো. হানিফ হাওলাদারের মেয়ে।

মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শেষে শুক্রবার বিকেলে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version