রাজধানীর গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আরও সাতজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা এ মামলায় গ্রেপ্তার সাত আসামিকে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আদালতে হাজির করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন।

কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন—মীর্জা মোখলেছুর রহমান (৭২), মীর্জা আরজু (৪২), মো. শহিদুল ইসলাম (৪০), মো. মোশারফ হোসেন (৬০), মোক্তার হোসেন (৪৪), মো. আনোয়ার হোসেন আনা (৪৬) এবং বায়জিদ ইসলাম (৫৬)।

মামলার নথি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সাতজন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামিদের আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. রুহুল আমিন।

আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামিরা ঘটনার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন এবং প্রাথমিক তদন্তেও মামলার অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে তাদের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের কাজ চলছে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও আদালতে আবেদনে জানানো হয়। পাশাপাশি তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হওয়ায় পৃথকভাবে রিমান্ডের আবেদন পাঠানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে একই মামলায় গত ১২ সেপ্টেম্বর ২৪ আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন আদালত। পরে রোববার আরও নয়জনকে এবং সোমবার আরও নয়জনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানার আওতাধীন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারবিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেখানে সমাবেশ ও স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে পুলিশের দিকে ককটেল ছোড়া হয় বলে মামলার অভিযোগ। পরে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে উপস্থিত ব্যক্তিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিকে চলে যান।

ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধারের কথাও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে আরও ৮০ থেকে ১০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version