দীর্ঘ সাত বছরের বিরতির পর ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে হওয়া এই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।

দুই দিনের সফরে শনিবার ভারতের রাজধানীতে পৌঁছান শি চিনপিং। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতিন প্রসাদা। পরে ব্রিকসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির বাইরে মোদি ও শি মুখোমুখি আলোচনায় অংশ নেন।

বৈঠকের শুরুতে মোদি ব্রিকসে চীনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং ভারতের সভাপতিত্বকালীন সময়ে বেইজিংয়ের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

জবাবে শি চিনপিং স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত জুনে ব্যক্তিগতভাবে তিনি ভারত সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। তিনি জানান, গত কয়েক বছরে মোদির সঙ্গে একাধিকবার তার বৈঠক হয়েছে এবং সেসব আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল ও ইতিবাচক পথে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা গড়ে উঠেছে।

চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, রাজনৈতিক ও জাতীয় বাস্তবতায় পার্থক্য থাকলেও ভারত ও চীন একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে পারে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ হিসেবে এবং গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উভয়ের দায়িত্বও অনেক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠকে সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) সংক্রান্ত বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। অন্যদিকে চীন সাধারণত সীমান্ত বিরোধকে অন্যান্য সহযোগিতামূলক ক্ষেত্র থেকে আলাদাভাবে দেখার পক্ষে অবস্থান নেয়।

এর আগে গত মাসে বেইজিংয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর মধ্যে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা এবং এলএসি এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

উল্লেখ্য, ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০০৩ সালে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা কাঠামো চালু করা হয়। বর্তমানে দোভাল ও ওয়াং ই নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি হিসেবে সেই প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব পালন করছেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version