হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নৌসম্পদকে লক্ষ্য করে নতুন হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গত এক সপ্তাহে এ ধরনের তৃতীয় ঘটনার কথা জানিয়েছে ইরানের এই সামরিক বাহিনী।

আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওমান উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত দুটি মার্কিন চালকবিহীন সামুদ্রিক যানকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, লক্ষ্যবস্তু ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত সামুদ্রিক ড্রোন।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা যায়, দুটি মার্কিন নৌসম্পদে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন আঘাত হানে। এর মধ্যে একটি নৌযানে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনাস্থলটি ওমানের আল খাসাব উপকূলের কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহণের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হয়।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা পদক্ষেপ এবং সামরিক তৎপরতার কারণে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতেও মার্কিন নৌবাহিনীর কয়েকটি যুদ্ধজাহাজে হামলার দাবি করেছিল আইআরজিসি। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে কয়েকটি মার্কিন নৌযানকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনার পর এক সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো মার্কিন সামরিক সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি সামনে এলো।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে ধারাবাহিক এসব হামলা ও পাল্টা উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version