পদ্মা নদীর পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কয়েকটি সীমান্তবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ জলাবদ্ধতার মধ্যে পড়েছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল। অনেক বাড়িঘর, আঙিনা ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নদীভাঙন ও সাপের উপদ্রব নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন বাসিন্দারা।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ওই দুই ইউনিয়নের ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

নদীর পানি বৃদ্ধির প্রভাবে সীমান্তঘেঁষা কয়েকটি এলাকায় ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগর, আতারপাড়া ও ডিগ্রিরচরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, বিদ্যুতের খুঁটি এবং স্থানীয় সড়ক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপরে অবস্থান করছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহায়তা দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে নৌপথেও প্রভাব পড়েছে। কয়েকটি এলাকায় ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

চিলমারী ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের নিম্নাঞ্চলে ইতোমধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে এবং কয়েক হাজার পরিবার দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অনেক সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক বসতভিটার কাছাকাছি পর্যন্ত পানি পৌঁছে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version