রপ্তানির কাগজপত্রে বিপুল পরিমাণ পণ্য পাঠানোর তথ্য থাকলেও বাস্তবে সংশ্লিষ্ট কনটেইনার ডিপোতে সেই পণ্যের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমন একটি গুরুতর অনিয়মের ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেডের পাঁচটি সন্দেহজনক রপ্তানি চালান আটকে দেওয়া হয়েছে। এসব চালানের ঘোষিত মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অ্যাসিকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে প্রায় ৪ লাখ ৩৮ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানির তথ্য দেখানো হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে গিয়ে কর্মকর্তারা ঘোষিত পণ্যের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাননি।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রপ্তানি কনসাইনমেন্ট যাচাইয়ের সময় চালানগুলো তাদের নজরে আসে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গন্তব্য দেশ, পণ্যের ধরন এবং ঘোষিত ওজনের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হয়।

চালানগুলোতে গন্তব্য হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিপাইনের নাম উল্লেখ ছিল। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আমদানি করা কাঁচামালের পরিমাণের তুলনায় ঘোষিত রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ অস্বাভাবিক বেশি বলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

দাখিল করা নথি অনুযায়ী, পণ্যগুলো ইসাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো থেকে রপ্তানি হওয়ার কথা ছিল। তবে কাস্টমস কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে পণ্য পরীক্ষার নির্দেশ দিলে ডিপো কর্তৃপক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কোনো পণ্য দেখাতে পারেননি। বরং তারা জানান, ঘোষিত পণ্য কখনোই ডিপোতে প্রবেশ করেনি।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রায় ১২১ টন পণ্যের বিপরীতে রপ্তানির তথ্য দেখানো হলেও বাস্তবে ওই পণ্য কোথাও পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকৃত পণ্য ছাড়াই রপ্তানি দেখানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—পণ্য ডিপোতে প্রবেশ না করেই কীভাবে রপ্তানির কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো। এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version