ভারত ও পাকিস্তানের সংগীত নিয়ে নিজের মতামত জানিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। তার মতে, দুই দেশের সংগীতেই ভালো সুর রয়েছে। তবে পাকিস্তানি সংগীতের শেকড় ও ঐতিহ্যের গভীরতা তুলনামূলকভাবে বেশি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দুই দেশের সংগীতের পার্থক্য নিয়ে কথা বলেন এই গায়ক। আতিফের ভাষ্য, ভারতীয় সংগীতের বর্তমান ধারায় বাণিজ্যিক দিকটি অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সংগীতে ঐতিহ্য, মৌলিকত্ব এবং শিল্পীদের নিজস্ব সৃজনশীলতার জায়গা তুলনামূলকভাবে বেশি।
আতিফ আসলাম বিশেষভাবে কোক স্টুডিও পাকিস্তান ও কোক স্টুডিও ভারত-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার মতে, পাকিস্তানের সংস্করণে শিল্পীদের নিজস্ব সংগীতধারা ও সৃষ্টিশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একটি গান তৈরির সময় একাধিক সংগীতশিল্পী ও সুরকার নিজেদের মতো করে অবদান রাখার সুযোগ পান।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি কোক স্টুডিওতে গায়ক-গায়িকাদের নিজস্ব স্টাইল বজায় রেখে গান পরিবেশনের স্বাধীনতা রয়েছে। তার মতে, ভারতের কোক স্টুডিওতে এই স্বাধীনতার বিষয়টি তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায় এবং সেখানে বাণিজ্যিক সাফল্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি গানও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রকাশের মাত্র ১৯ ঘণ্টার মধ্যে গানটির ইউটিউব ভিউ ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।
সাক্ষাৎকারে আতিফকে প্রশ্ন করা হয়, তার গাওয়া কোনো গান আছে কি না, যেটি অন্য কোনো শিল্পী গাইলে আরও ভালো শোনাত। প্রশ্নের উত্তরে তিনি দ্রুতই বলিউডের ‘তেরে লিয়ে’ গানটির নাম উল্লেখ করেন।
২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘প্রিন্স’ সিনেমার এই গানটি আতিফ আসলাম ও শ্রেয়া ঘোষাল গেয়েছিলেন। সিনেমাটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন বিবেক ওবেরয়। আতিফ বলেন, তার নিজের গাওয়া হলেও গানটি অন্য কেউ গাইলে হয়তো আরও ভালো হতো বলে তিনি মনে করেন।
তবে আতিফের এই মন্তব্যের পর গানটির সুরকার সচিন গুপ্ত প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ভারতে আতিফ আসলামকে জনপ্রিয় করে তুলতে ‘তেরে লিয়ে’ গানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
পরে বিষয়টি নিয়ে আর কোনো মন্তব্য না হওয়ায় আলোচনাটি সেখানেই থেমে যায়।
