জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য দোয়া করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘এসআরবি বিল ২০২৬’-এর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দোয়া করেন। বিলটির রিপোর্ট উপস্থাপনের সময় বাড়ানো নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থানের প্রশংসা করেন জামায়াত আমির।

বক্তব্যের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রশংসা করেন শফিকুর রহমান। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ইতিবাচক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময় বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী আগের অবস্থান থেকে আরও উদারতা দেখিয়েছেন।

এরপর শফিকুর রহমান দুই হাত তুলে মোনাজাতের ভঙ্গিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেন। তিনি আল্লাহর কাছে সালাহউদ্দিন আহমদের অন্তর আরও প্রশস্ত করে দেওয়ার এবং জাতির স্বার্থে কাজ করার তাওফিক দেওয়ার প্রার্থনা জানান।

সংসদে নিজের আসনে বসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ সময় ‘আমিন’ বলতে এবং পরে মুখে হাত বুলাতে দেখা যায়।

বিশেষায়িত বাহিনী গঠন নিয়েও বক্তব্য

র‍্যাব বিলুপ্তির পর ভবিষ্যতে নতুন কোনো বিশেষায়িত বাহিনী বা ব্যুরো গঠন করা হলে বিরোধী দলের অবস্থানও তুলে ধরেন জামায়াত আমির।

তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে এমন কোনো বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজন হলে এবং বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হলে বিরোধী দল বাধা দেবে না। তবে নতুন বাহিনী গঠনের আগে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

শফিকুর রহমান অতীতে র‍্যাবের বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনাসহ বিভিন্ন ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো আতঙ্ক ও অবিশ্বাস রয়েছে।

বিলটি আরও কিছুদিন পর্যালোচনা করে পরবর্তী সপ্তাহে সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, বিস্তারিতভাবে আলোচনা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা হলে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

ভুক্তভোগীদের প্রসঙ্গ

বক্তব্যে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এবং অতীতের বিভিন্ন ভুক্তভোগী পরিবারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ভয় ও মানসিক আঘাতের কারণে অনেক পরিবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতেও সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।

তার বক্তব্যে উঠে আসে, অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে নতুন কোনো আইন বা বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেন জামায়াত আমির। তার বক্তব্যের পর সালাহউদ্দিন আহমদ হাসিমুখে প্রতিক্রিয়া জানান এবং বিরোধীদলীয় নেতার আবেগ ও অনুভূতিকে সম্মান করার কথা বলেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version