হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা ঠেকাতে দেশটির নির্দিষ্ট কিছু স্থাপনায় সীমিত আকারে হামলার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে প্রণালির কাছাকাছি ইরানের দ্বীপগুলোতে রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা আবার সক্রিয় করার উদ্যোগ ঠেকানোই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন মার্কিন কর্মকর্তা এমন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, ইরান যদি পুনরায় রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা শক্তিশালী করতে পারে, তাহলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজগুলো আবারও হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সীমিত হামলার পরিকল্পনা সেন্টকমের
মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কমান্ড সেন্টকম গত সপ্তাহে সম্ভাব্য সীমিত হামলার একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
তবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হলেও ট্রাম্প এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে ছিলেন না। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তিনি পরিকল্পনাটি অনুমোদন করতে পারেন—এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে
এক্সিওসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত দুই মাসে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা, সমুদ্রপথ থেকে মাইন অপসারণ এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে দেওয়ার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর ফলে তেলবাহী জাহাজের ওপর হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতা আগের তুলনায় কমেছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে তেল রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে।
সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের অভিযোগ
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান এখন আবারও হরমুজ ঘিরে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে ওয়াশিংটনের ধারণা।
যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, এসব ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পুনর্গঠন করা গেলে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার সক্ষমতা ইরানের আবারও বাড়তে পারে।
এফ-৩৫কে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র
সম্প্রতি একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়ার সময় একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল বলে মার্কিন সূত্রের দাবি।
তবে ওই ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন যুদ্ধবিমানটির জন্য কোনো কার্যকর হুমকি তৈরি করতে পারেনি। তারপরও ঘটনাটিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনরায় সক্রিয় করার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে মার্কিন প্রশাসন।
নতুন হামলার সিদ্ধান্তে বদল আসছে?
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা সেন্টকম মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সেনাপ্রধান ড্যান কেইন এবং প্রেসিডেন্টের দপ্তরকে জানিয়েছে বলে এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে সেন্টকমের সুপারিশের পরও ট্রাম্প প্রশাসনের একটি অংশ নতুন হামলা এড়িয়ে চলার পক্ষে ছিল। পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে ইরান জর্ডানে নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর। এরপর ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরে ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এখন মূল প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের সামরিক স্থাপনায় সীমিত হামলার অনুমোদন দেবেন কি না। এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
