জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সদস্যদের মধ্যে হট্টগোল, একে অপরের বক্তব্যে বাধা এবং সংসদীয় বিধি না মানার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সংসদের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে একটি সম্পূরক প্রশ্নকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিকেল ৩টায় স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হওয়ার পর কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্নটির ধরন নিয়ে মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও হট্টগোল শুরু হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাকস্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। পরে বিরোধী দলের সদস্যরা তার বক্তব্যের একটি অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
হট্টগোলের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে সংসদীয় নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি।
নিজের প্রায় চার দশকের সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদকে কার্যকর ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরে রাখতে হলে সবাইকে নির্ধারিত কার্যপ্রণালি মেনে চলতে হবে। সংসদ সদস্যদের নিয়মিতভাবে ‘রুলস অব প্রসিডিউর’ পড়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
স্পিকার আরও বলেন, অধিবেশন পরিচালনার সময় সভাপতির বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা সংসদীয় শিষ্টাচারের অংশ। স্পিকারের নির্দেশনা অমান্য করা বা নিয়ম ভঙ্গের প্রবণতা চলতে থাকলে সংসদের কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি অতীতের সংসদীয় অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সংসদে আরও সুন্দর ও দায়িত্বশীল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্যকে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অনুরোধ করেন।
স্পিকারের বক্তব্যে মূলত সংসদের শৃঙ্খলা, নিয়ম মেনে বিতর্ক এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্বই উঠে আসে।
