ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো হামলা হলে তার প্রতিক্রিয়া আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া। শনিবার (২২ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানি সেনা মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোর অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে সামরিক কৌশলে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগে ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিতে প্রতিরোধমূলক অবস্থান বেশি গুরুত্ব পেলেও বর্তমানে আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

তবে এর অর্থ আগাম কোনো দেশের ওপর হামলা চালানো নয় বলে পরিষ্কার করেছেন আকরামিনিয়া। তিনি বলেন, ইরানের ওপর আগ্রাসন হলে দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সেই প্রতিক্রিয়ার মাত্রা হামলার চেয়েও বেশি হতে পারে।

তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক অবকাঠামো ও সরঞ্জাম পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বাহিনীতে নতুন সামরিক সরঞ্জাম যুক্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ ইরানের সক্ষমতা নিয়ে ভুল হিসাব করলে তার কঠোর মূল্য দিতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সামরিক নেতৃত্বের কাঠামোয় সাম্প্রতিক পরিবর্তনের বিষয়টিও তুলে ধরেন এই কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করাই এসব পরিবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

আকরামিনিয়া আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি বা সাময়িক শান্ত পরিস্থিতিতেও ইরান তার প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। কারণ দেশটির সামরিক নেতৃত্ব সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছে না।

হরমুজ প্রণালির ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। তার মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে আরও বেশি কৌশলগত গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের পরিবর্তনশীল চিত্রের একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন তিনি।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version