হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে তেহরানের বক্তব্য, ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে প্রণালি দিয়ে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে। একই সময়ে ইরান নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায়, প্রণালির নিরাপত্তা ও চলাচলের ক্ষেত্রে তেহরানের অনুমোদনকে উপেক্ষা করা যাবে না। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর মার্কিন নৌ তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—বাস্তবে হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বেশি কার, ইরানের নাকি যুক্তরাষ্ট্রের?
এটি বুঝতে হলে প্রণালিটির ভৌগোলিক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক জাহাজ চলাচলের ধরন দেখতে হয়।
দুটি প্রধান নৌপথ
সংঘাতের আগে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল তুলনামূলক স্বাভাবিক ছিল। আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিয়ম মেনে জাহাজগুলো নির্ধারিত ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম অনুসরণ করত। কোন জাহাজ কোন পথে যাবে, তা নির্ভর করত গন্তব্য, বন্দর, বাণিজ্যিক চুক্তি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।
কিন্তু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা তীব্র হওয়ার পর প্রণালির ভেতরে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে উত্তর ও দক্ষিণ—দুটি রুট নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে।
উত্তরের রুটটি ইরানের উপকূলের কাছ দিয়ে লারাক ও কেশম দ্বীপের পাশ দিয়ে গেছে। এই পথ ইরানের বিভিন্ন বন্দর ও সমুদ্রভিত্তিক তেল স্থাপনার কাছাকাছি হওয়ায় তেহরানের ভৌগোলিক প্রভাব এখানে তুলনামূলক বেশি।
অন্যদিকে দক্ষিণের রুটটি ওমানের উপকূলের কাছাকাছি এবং ইরানের ভূখণ্ড থেকে কিছুটা দূরে। যুক্তরাষ্ট্র এই রুটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং তাদের নৌবাহিনীর উপস্থিতির মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তাহলে কার প্রভাব বেশি?
হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় ইরানের প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। প্রণালিটির উত্তর তীরের বড় অংশ ইরানের নিয়ন্ত্রণে এবং এর আশপাশে দেশটির সামরিক ও নৌ সক্ষমতা রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি মূলত তাদের নৌবাহিনী, মিত্রদেশগুলোর সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য রক্ষায় সামরিক উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।
অর্থাৎ, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের রয়েছে শক্তিশালী ভৌগোলিক ও আঞ্চলিক প্রভাব, আর যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে সামরিক ও আন্তর্জাতিক নৌ-ক্ষমতার প্রভাব।
ফলে এককভাবে পুরো প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কোনো এক পক্ষের হাতে রয়েছে—এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচলের রুট, সামরিক উপস্থিতি এবং উপকূলীয় নিয়ন্ত্রণ—এই তিনটি বিষয় মিলিয়েই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত প্রভাবের চিত্র তৈরি হচ্ছে।
