রাজধানীর গণপরিবহণে নারীদের জন্য আসছে নতুন একটি বিশেষ বাস সার্ভিস। নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্পোরেশন—বিআরটিসি চালু করতে যাচ্ছে ‘মহিলা বাস সার্ভিস’, যা ইতোমধ্যে ‘পিংক বাস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষ বাস সার্ভিসের উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন এই উদ্যোগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—বাসগুলো পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর। অর্থাৎ চালকের আসন থেকে শুরু করে যাত্রীসেবা—দুই ক্ষেত্রেই নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই রাজধানীতে এই বিশেষ পরিবহণ সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিআরটিসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তেজগাঁওয়ের বিআরটিসি ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মহিলা বাস সার্ভিসের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।

উদ্বোধনী আয়োজনে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা।

রাজধানীর গণপরিবহণ ব্যবস্থায় প্রতিদিন অসংখ্য নারী যাতায়াত করেন। কর্মজীবী নারী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন পেশার নারীদের জন্য বাস এখনো অন্যতম প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম।

কিন্তু গণপরিবহণে নারীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার অভিযোগ রয়েছে। অতিরিক্ত ভিড়, আসনের স্বল্পতা, হয়রানি, অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ—এসব কারণে অনেক নারীকে প্রতিদিন নানা ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়।

এই পরিস্থিতিতে নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা বাস চালুর উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

পিংক বাস সার্ভিস চালু হলে নারী যাত্রীরা নিজেদের জন্য নির্ধারিত পরিবহণে তুলনামূলক স্বস্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে যাতায়াত করতে পারবেন—এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে অফিসগামী নারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই সার্ভিস কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে পরিবহণ খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও উদ্যোগটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

কারণ দেশের গণপরিবহণে নারী চালকের উপস্থিতি এখনো খুব বেশি নয়। সেই জায়গায় নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর দিয়ে একটি বিশেষ বাস সার্ভিস পরিচালনা করা হলে তা অন্য নারীদেরও এই পেশায় আসতে উৎসাহিত করতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে পরিবহণ খাতের আরও বিভিন্ন পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব হবে।

এদিকে পিংক বাস চালুর খবর প্রকাশের পর নারী যাত্রীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। কোন কোন রুটে বাস চলবে, কী থাকবে সময়সূচি এবং নিয়মিতভাবে সেবা পাওয়া যাবে কি না—এসব বিষয় নিয়েই এখন তাদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে।

তবে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু উদ্বোধন করলেই এই প্রকল্পের সাফল্য নিশ্চিত হবে না। নিয়মিত বাস চলাচল, পর্যাপ্ত সংখ্যা, নির্ধারিত সময়সূচি এবং যাত্রীবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।

যদি এসব বিষয় ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে রাজধানীর নারী যাত্রীদের জন্য ‘পিংক বাস’ একটি কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য বিকল্প গণপরিবহণে পরিণত হতে পারে।

একই সঙ্গে গণপরিবহণে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর পর রাজধানীর সড়কে বিআরটিসির এই ‘পিংক বাস’ কতটা সফলভাবে সেবা দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে এই সার্ভিস কতটা বিস্তৃত করা হয়।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version