বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং।

সোমবার ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতের শুরুতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা।

এক্ষেত্রে কানাডা কীভাবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।

আলোচনায় সামরিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়েছে। পাশাপাশি কৌশলগত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো, যৌথ প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা যেতে পারে বলে মত উঠে আসে।

এর পাশাপাশি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন উভয় পক্ষ।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে এই খাতে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকে শুধু প্রতিরক্ষা সহযোগিতাই নয়, বাংলাদেশ ও কানাডার সামগ্রিক কূটনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

দুই পক্ষই আশা প্রকাশ করেছে, পারস্পরিক উদ্যোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে।

সব মিলিয়ে, ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগামী দিনে আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো বাস্তবে কতটা এগিয়ে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে কানাডার সম্ভাব্য সহযোগিতা কী রূপ নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version