ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস বা এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো আর ব্যবহার করা সম্ভব নয়—এমন তথ্য উঠে এসেছে একটি মার্কিন সংবাদ প্রতিবেদনে। এতে যুদ্ধের আগে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের রিপার বহরের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হারানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক মূল্য ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আগের কিছু হিসাবের চেয়েও বেশি। এর আগে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা রিপার ড্রোনের প্রায় ২০ শতাংশ হারানোর কথা বলা হয়েছিল।

একেকটি এমকিউ-৯ রিপারের দাম সাধারণত ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। ড্রোনে থাকা সেন্সর, রাডার ও অস্ত্রের ধরন অনুযায়ী এর মোট মূল্য পরিবর্তিত হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহারে এই ড্রোন মূলত দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কাজে ব্যবহৃত হয়।

রিপার ড্রোন হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি জেডিএএম ধরনের গাইডেড বোমাও বহন করতে পারে। তবে এর গতি তুলনামূলক কম এবং এটি সাধারণত এমন উচ্চতায় পরিচালিত হয়, যেখানে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অঞ্চলটিতে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কারণে এসব ড্রোনের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

হরমুজ প্রণালির আশপাশেও দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নজরদারি ও সামরিক কার্যক্রমে রিপার ব্যবহারের কথা জানা যায়। ফলে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ড্রোনগুলোও সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

শুধু রিপার নয়, সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের মজুত নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহারের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

তবে মার্কিন প্রশাসন অস্ত্রের মজুত সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ রয়েছে এবং একই সঙ্গে নতুন অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

এর মধ্যেই যুদ্ধের ব্যয় এবং ব্যবহৃত অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করার জন্য কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত অর্থ চাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত অর্থের প্রস্তাবের মধ্যে ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের ব্যয় এবং অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠনের অর্থও রয়েছে।

ফলে রিপার ড্রোনের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক সম্পদের ক্ষতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে মার্কিন অস্ত্র ও সরঞ্জামের মজুতের ওপর কতটা চাপ তৈরি হচ্ছে—সেই প্রশ্নও সামনে আনছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version