ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য চতুর্থ মেয়াদকে ঘিরে বিরোধিতা আরও প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এবার সরাসরি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে নিউজিল্যান্ড ফুটবল। ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে বিতর্কিত একটি পরিকল্পনা এবং পরে সেটি বাতিল হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দেশটির এই অবস্থান বলে জানা গেছে।
নিউজিল্যান্ডের সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশটি তাদের আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থা ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশনের (ওএফসি) অবস্থান থেকে ভিন্ন পথে হাঁটছে। ফলে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ফিফার ভেতরে বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বড় পরিসরের বিশ্বকাপে ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে একমাত্র দল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশের প্রকাশ্য বিরোধিতা ইনফান্তিনোর জন্য রাজনৈতিকভাবে চাপ বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এরই মধ্যে ইউরোপের উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের কনকাকাফের সঙ্গে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠেয় ফিফা কংগ্রেসে চতুর্থ মেয়াদের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ইনফান্তিনোর। ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফের অধীনে রয়েছে মোট ১৩৬টি ভোট। ফলে এসব অঞ্চলের অবস্থান নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
নিউজিল্যান্ড ফুটবলের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু প্র্যাগনেল রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ফিফার নেতৃত্বের প্রতি তাদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার কারণেই ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তার মতে, বিষয়টি নিয়ে ফিফার অভ্যন্তরীণ কোনো দ্রুত তদন্ত যথেষ্ট নয়। বরং পুরো প্রক্রিয়া যাচাই করতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পর্যালোচনা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিতর্কিত বাণিজ্যিক প্রস্তাবটি কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কারা কী ভূমিকা পালন করেছিলেন, সেটি স্পষ্ট হওয়া দরকার বলে মনে করছে নিউজিল্যান্ড।
প্র্যাগনেল বিশেষভাবে থ্রাইভ ক্যাপিটালের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এনে তিনি জানতে চেয়েছেন, প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা কী ছিল এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণে কারা যুক্ত ছিলেন।
নিউজিল্যান্ডের অবস্থানের সঙ্গে অবশ্য পুরোপুরি একমত নয় তাদের আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থা ওএফসি। তারা ইনফান্তিনোর প্রতি পুরোপুরি সমর্থন প্রত্যাহার করেনি। বরং বিতর্কিত প্রস্তাবটি বাতিল করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সংস্থাটি।
ওএফসির বক্তব্য অনুযায়ী, গত প্রায় এক দশকে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে ওশেনিয়া অঞ্চলের ফুটবলে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিকে নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনার সুযোগ হিসেবেই দেখতে চায় তারা।
ফলে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদের নির্বাচন সামনে রেখে ফিফার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এখন আরও জটিল হয়ে উঠছে। নিউজিল্যান্ডের প্রকাশ্য বিরোধিতা সেই বিভাজনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

