হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন, সেটি তিনি অনেকটা রসিকতার ছলেই করেছিলেন—এমন দাবি উঠে এসেছে কয়েকটি মার্কিন সংবাদ প্রতিবেদনে।
শনিবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক ব্রায়ান শভার্টজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানান, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক বা বিস্তারিত আলোচনা করেননি।
নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প হরমুজ নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে ঘোষণা করতে পারে।
শভার্টজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প মন্তব্যটি করার পর হালকা হাসেন। তবে পরক্ষণেই তিনি তার বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন।
ওই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর বর্তমানে ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া সেখানে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ইরানি সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেন্ট্রাল কমান্ডও দাবিটিকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়েছে।
জাহাজ চলাচলের তথ্যও ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিপিং অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান কেপলারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম ১৬৬ দিনে প্রায় ৩ হাজার ৩৭১টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করেছে। যদিও এই সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর আগের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশের কাছাকাছি।
হরমুজকে ঘিরে উত্তেজনার পেছনে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক ও কূটনৈতিক সংঘাতও বড় কারণ। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এপ্রিলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরে ১৭ জুন থেকে দুই পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করে।
তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কীভাবে দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হলে আলোচনা কার্যত থেমে যায়।
এরপর ৮ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজে নৌ চলাচল ব্যাহত হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে।

