কয়েক বছর আগে অভিনেতা ডনের সঙ্গে এক নারীর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি প্রকাশের পর সেটিকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ছবিতে থাকা নারীকে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা বলে দাবি করা হলেও পরবর্তীতে এ দাবির সত্যতা নিয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে আসে।

সালমান শাহর ঘনিষ্ঠজন এবং সামিরার সাবেক স্বামী মোস্তাক ওয়াইজ এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবিকে সামিরার ছবি হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল, সেখানে থাকা নারী আসলে সামিরা নন। তার দাবি, ওই নারী ছিলেন অভিনেত্রী সাবরিনা।

মোস্তাক ওয়াইজের বক্তব্য অনুযায়ী, ছবিটি তোলা হয়েছিল ‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমার শুটিংয়ের সময়। সিনেমাটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সালমান শাহ ও শাবনাজ। আর সাবরিনা ছিলেন পার্শ্বচরিত্রের অভিনেত্রী।

তার ভাষ্য, শুটিংয়ের এক পর্যায়ে একটি ঘরের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে সালমান শাহ ডন ও সাবরিনার একটি ছবি তুলেছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ডনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ রসিকতাও করতেন সালমান শাহ।

তবে ডন ও সামিরার একসঙ্গে থাকা একটি আলাদা ছবির কথাও উল্লেখ করেছেন মোস্তাক ওয়াইজ। তার দাবি, একবার সামিরা একটি ম্যাগাজিন পড়ছিলেন এবং সালমান শাহ তখন ছবি তুলছিলেন। ওই সময় ডন সেখানে হাত বাড়িয়ে দিলে সেই মুহূর্তটিও ক্যামেরায় ধারণ করা হয়।

মোস্তাক ওয়াইজ আরও দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডন ও সামিরাকে নিয়ে যেসব ছবি ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোই সম্পাদনা করা কিংবা ফটোশপের মাধ্যমে তৈরি করা।

অন্যদিকে, সামিরাও অতীতে ভাইরাল হওয়া ছবি ও এসব দাবি নিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, একটি ছবি ব্যবহার করে তার সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এতে তাকে নিয়ে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে এবং তিনি অপবাদের শিকার হচ্ছেন।

সামিরার ভাষ্য অনুযায়ী, ডন তার কাছে ছোট ভাইয়ের মতো ছিলেন। এমনকি ঈদের সময় ডন তাকে সালাম করতেন বলেও তিনি জানান। বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং প্রশাসনের জিজ্ঞাসাবাদেও সহযোগিতা করেছেন বলে জানান।

সালমান শাহ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট সামিরাকে বিয়ে করেন তিনি। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এই অভিনেতা।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর আকস্মিক মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর থেকেই ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক সম্পর্ক এবং মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা আলোচনা, প্রশ্ন ও বিতর্ক সামনে এসেছে। ডন ও সামিরাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ছবির বিষয়টিও সেই আলোচনারই একটি অংশ হয়ে রয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version