দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ফুটবলের মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে ফিলিস্তিন। গাজা যুদ্ধের কারণে প্রায় তিন বছর ধরে দেশটির ঘরোয়া ফুটবল ও অন্যান্য ক্রীড়া কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ ছিল। এবার আগামী সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

সোমবার ১০ আগস্ট রামাল্লায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজউব জানান, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে দেশটির ক্রীড়া কার্যক্রম এবং ফুটবল লিগ নতুন করে শুরু হবে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধে ফিলিস্তিনের ক্রীড়া জগতও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে পেশাদার ফুটবলসহ বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে যায়।

যুদ্ধের মধ্যে প্রাণ হারানো ক্রীড়াবিদদের স্মরণে প্রথম প্রতিযোগিতার নাম দেওয়া হয়েছে ‘থাউজেন্ড মার্টায়ার্স কাপ’। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, সংঘাতের সময় ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ১৪ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ নিহত হয়েছেন। তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতেই এই নাম বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন।

এই বিশেষ টুর্নামেন্টে দুই শতাধিক ক্লাব অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ১৪৬টি, গাজার ৪৪টি এবং লেবাননে থাকা ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরের ৩৬টি ক্লাব রয়েছে। তিনটি অঞ্চলেই একই সময়ে টুর্নামেন্টের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজউব বলেন, যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রার পাশাপাশি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে গেলেও মানুষের আশা ও খেলাধুলার প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে যায়নি।

তার ভাষায়, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও খেলাধুলা ফিলিস্তিনিদের কাছে আশা এবং জীবনের প্রতীক হিসেবে টিকে থাকবে।

তবে ফুটবল ফেরানোর পথ এখনও সহজ নয়। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও সংকটে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং ক্লাবগুলো বড় ধরনের আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফাসহ অন্যান্য ক্রীড়া ফেডারেশনের সহযোগিতা চেয়েছেন রাজউব।

তিনি একই সঙ্গে খেলোয়াড়, ক্লাব এবং শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে খেলাধুলা করার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং স্বাভাবিক জীবনের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনি শিশু ও খেলোয়াড়দের খেলাধুলার অধিকার রয়েছে।

দীর্ঘ যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার পর তাই ৪ সেপ্টেম্বরের দিনটি ফিলিস্তিনি ফুটবলের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করতে যাচ্ছে। মাঠে বল গড়ানোর মধ্য দিয়ে শুধু একটি লিগই নয়, বহু মানুষের কাছে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে এই প্রত্যাবর্তনকে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version