২০২৬ বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্স করলেও ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে লিওনেল মেসিকে। মাঠে একের পর এক দুর্দান্ত মুহূর্ত উপহার দেওয়ার পাশাপাশি বাবার গুরুতর অসুস্থতার খবর নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় ছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা।

তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ চলাকালে মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের ফুটবল-অভিভাবক হোর্হে মেসি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। পরিস্থিতি এতটাই সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছিল যে এক পর্যায়ে টুর্নামেন্ট মাঝপথে ছেড়ে আর্জেন্টিনায় ফিরে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন মেসি।

দিয়ারিও ওলের বরাত দিয়ে সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো এই তথ্য সামনে এনেছেন বলে জানা গেছে। বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির মধ্যেও বাবার শারীরিক অবস্থার খবর নিয়মিত রাখছিলেন মেসি।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর মেসির আবেগঘন প্রতিক্রিয়াতেও ব্যক্তিগত কষ্টের বিষয়টি কিছুটা প্রকাশ পায়। ম্যাচ শেষে তাকে আবেগাপ্লুত অবস্থায় দেখা যায়। পরিবার নিয়ে কঠিন সময়ের মধ্যেও জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে সরে যাননি তিনি।

বিশ্বকাপের গ্যালারিতে মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো, সন্তান এবং শ্বশুর উপস্থিত ছিলেন। তবে তার বাবা হোর্হে ও মা সেলিয়া মাঠে থেকে ছেলের খেলা দেখতে পারেননি।

জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকার সময়ও মেসির সতীর্থ ও কোচিং স্টাফরা তার বাবার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ নিতেন। তাকে প্রয়োজনে ব্যক্তিগত বিমানে রোজারিও গিয়ে বাবার সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবার দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

তবে শেষ পর্যন্ত মেসি জাতীয় দলের সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন। ব্যক্তিগত দুঃখ ও উদ্বেগকে আড়ালে রেখে মাঠে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

এদিকে রোজারিওতে হোর্হে মেসি তখন প্যালিয়েটিভ চিকিৎসার মধ্যে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাবার অসুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যেও মেসি বিশ্বকাপে নিজের দায়িত্ব পালন করে যান।

ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপ মেসির জন্য শুধু মাঠের পারফরম্যান্সের কারণে নয়, ব্যক্তিগত জীবনের এক কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে আসার কারণেও বিশেষ হয়ে থাকল। খেলায় মনোযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি বাবার জন্য উদ্বেগ—দুইয়ের ভার নিয়েই টুর্নামেন্টটি কাটিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version