ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার পর প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা এই বৈঠকে ইরান পরিস্থিতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা, লেবানন-সংক্রান্ত সমঝোতা এবং আব্রাহাম চুক্তির ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এমন সময় এই বৈঠক হচ্ছে যখন দুই নেতাই নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি। নেতানিয়াহু সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মধ্যে রয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, অর্থনৈতিক চাপ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনও সমালোচনার মুখে পড়েছে।

হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের পর লেবাননের সঙ্গে গৃহীত বিভিন্ন সমঝোতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে আব্রাহাম চুক্তির আওতা আরও বাড়ানোর বিষয়ও আলোচনার তালিকায় রয়েছে।

বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তার এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে উভয়ের অবস্থান কাছাকাছি।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক অতীতে নানা সময়ে ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেলেও ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর দুই নেতার মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে ইরানকে কেন্দ্র করে উভয় দেশ যৌথ সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যার উদ্দেশ্য ছিল তেহরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইরানের পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ে। এর ফলে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ আরও বৃদ্ধি পায়।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version