যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে পরিকল্পিত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বাস্তবায়নের জন্য দেশটির ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং আব্রাহাম আকর্ডসে যোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। এ শর্ত পূরণ না হলে প্রস্তাবিত চুক্তি এগোবে না বলে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বার্তায় বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্ভাব্য পারমাণবিক সহযোগিতা কেবল শান্তিপূর্ণ বা বেসামরিক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে চুক্তি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি রিয়াদের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিটও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব যদি আব্রাহাম আকর্ডসে যোগ না দেয়, তাহলে দুই দেশের মধ্যে আলোচিত পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি বাস্তবায়নের সুযোগ থাকবে না।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সৌদি আরব এই চুক্তিতে যুক্ত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং মার্কিন প্রযুক্তির সহায়তায় বেসামরিক পারমাণবিক অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতার কথা জানানো হয়েছিল। তবে নতুন শর্ত আরোপের ফলে সেই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য গ্রহণযোগ্য ও সুস্পষ্ট একটি রাজনৈতিক রূপরেখা ছাড়া তারা ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পথে এগোবে না। ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষণার পর এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

