প্রায় আট মাস আটক থাকার পর এক মার্কিন নাগরিক নারীকে মুক্তি দিয়েছে ইরান। তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ওই নারী বর্তমানে ইরানের বাইরে নিরাপদে অবস্থান করছেন এবং শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ইরানের এই পদক্ষেপকে সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে তিনি শুরুতে ওই নারীর পরিচয় বা আটক হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। শুধু বলেন, তাকে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছিল।

ঘটনাটির বিশেষ তাৎপর্য হলো, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেই এই মুক্তির ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ জুলাই শুরু হওয়া মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকা অবস্থায় ইরান ওই মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেয়, যা কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

পরে ওই নারীর আইনজীবী জ্যারেড গেনসার জানান, মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ডেনা কারারি। ইরানি বংশোদ্ভূত এই মার্কিন নাগরিককে গুপ্তচরবৃত্তি ও শত্রুরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল, তবে তার আইনজীবীর দাবি—এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি ছিল না।

জানা গেছে, ডেনা কারারি ‘চিলড্রেন অব মেহর ফাউন্ডেশন’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যক্তিগত অনুদানের অর্থ দিয়ে ইরানের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তা করতেন। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই মানবিক কর্মকাণ্ডের সূত্র ধরেই তিনি ইরানি কর্তৃপক্ষের নজরে আসেন।

বর্তমানে ডেনা কারারি নিরাপদে ইরানের বাইরে অবস্থান করছেন এবং শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version