পাকিস্তানের করাচি উপকূলের কাছে নিখোঁজ হওয়া একটি কার্গো বিমানের সন্ধানে দেশটির কর্তৃপক্ষ ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। বুধবারও সমুদ্র এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) জানিয়েছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কে২ এয়ারওয়েজ পরিচালিত বোয়িং কার্গো বিমানটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচির উদ্দেশে উড্ডয়ন করেছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটিতে পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের সময় বিমানটির নেভিগেশন ব্যবস্থায় ত্রুটির বিষয়টি জানানো হয়েছিল। পরে রাত ৯টা ২১ মিনিটের দিকে রাডারে বিমানটিকে দ্রুত উচ্চতা হারাতে এবং অস্বাভাবিকভাবে গতিপথ পরিবর্তন করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর করাচি থেকে প্রায় ১৫৫ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে বিমানটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই একটি বিশেষ উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে বিমানটির সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করতে নৌ ও উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এর প্রাথমিক তথ্যেও দেখা গেছে, বিমানটি প্রথমে উচ্চতা কমায়, এরপর সাময়িকভাবে কিছুটা ওপরে ওঠে এবং পরে আবার দ্রুত নিচে নেমে যায়। এরপর আর কোনো সিগন্যাল পাওয়া যায়নি।
কে২ এয়ারওয়েজ পাকিস্তানের একটি বেসরকারি কার্গো পরিবহন সংস্থা, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রুটে নির্ধারিত এবং চার্টার কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করে।
বিমানবিষয়ক তথ্যভান্ডার এয়ারফ্লিটসের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ উড়োজাহাজটি ১৯৯৯ সালে নির্মিত হয়। শুরুতে এটি রাশিয়ার অ্যারোফ্লট এবং পরে ইন্দোনেশিয়ার গারুডা ইন্দোনেশিয়ার যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। ২০১২ সালে এটিকে কার্গো পরিবহনের উপযোগী করে রূপান্তর করা হয়।

