টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় কেন্দ্রটির পাঁচটি উৎপাদন ইউনিট একসঙ্গে চালু করা হয়েছে।

কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সব ইউনিট চালুর মাধ্যমে বর্তমানে মোট ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে অতিরিক্ত সহায়তা মিলছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানির পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে। যেহেতু এই বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে পানিনির্ভর, তাই পানির স্তর বাড়ায় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ৭৯ দশমিক ৮৬ ফুট এমএসএল। যদিও এ সময়ের নির্ধারিত রুল কার্ভ অনুযায়ী পানির স্তর ৮৪ দশমিক ৯৬ ফুট থাকার কথা, তবুও বর্তমান পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য পর্যাপ্ত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে চালু থাকা পাঁচটি ইউনিট থেকে মোট ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। কেন্দ্রটির মোট স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা ২৪২ মেগাওয়াট। পানির স্তর আরও বৃদ্ধি পেলে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘ খরা ও পানির স্বল্পতার কারণে গত কয়েক মাস ধরে কেন্দ্রটিতে এক বা দুটি ইউনিট চালিয়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছিল। তবে আবহাওয়ার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতিও বদলাতে শুরু করেছে। প্রথমে তিনটি এবং পরে ধাপে ধাপে পাঁচটি ইউনিটই চালু করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা আশা করছেন, বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের ধারা অব্যাহত থাকলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বজায় রাখা সম্ভব হবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version