আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং একটি আত্মনির্ভর জাতি গঠনের জন্য মাদকের বিস্তার রোধ করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি মনে করেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে হলে আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত পুনর্বাসন ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে মাদক নিয়ন্ত্রণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড এবং স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম দিয়ে মাদক সমস্যা পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন, চিকিৎসক, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ বাণিজ্য এখন আর কোনো নির্দিষ্ট দেশের সমস্যা নয়; এটি বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে বিপুলসংখ্যক কর্মক্ষম যুবশক্তি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। সঠিক শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
তবে মাদকের বিস্তার এই সম্ভাবনাময় জনশক্তির জন্য বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তরুণদের মাদক থেকে দূরে রেখে উৎপাদনশীল ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাণীর শেষে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন কামনা করেন তিনি এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
