মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার আলোচনা চললেও দক্ষিণ লেবাননে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সোমবার (১৫ জুন) দেওয়া এক বিবৃতিতে কাৎজ বলেন, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং উত্তর সীমান্তে নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে দক্ষিণ লেবাননে সেনা মোতায়েন চালিয়ে যাওয়া হবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি সরাসরি কোনো হামলার পথ বেছে নেয়, তাহলে তার জবাবও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে একটি নতুন কূটনৈতিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল, হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন সংলাপ শুরু করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
কূটনৈতিক মহলের ধারণা, লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো সমর্থন জানায়নি।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও তার জোট সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির বলেছেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির ওপর নির্ভর করবে না।
একই ধরনের অবস্থান নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচও। তিনি সম্ভাব্য চুক্তিকে ইসরায়েলের স্বার্থের জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক মহল সরকারের কাছ থেকে বিষয়টি নিয়ে আরও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনায় লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সব পক্ষেরই সমঝোতা বাস্তবায়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, লেবানন, সিরিয়া ও গাজা সীমান্তসংলগ্ন যেসব অঞ্চলকে নিরাপত্তা বলয়ের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা হতে পারে। তার ভাষায়, ভবিষ্যৎ হামলার ঝুঁকি কমানো এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা দুর্বল করাই এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য।
ফলে সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সমঝোতার আলোচনা চললেও দক্ষিণ লেবানন প্রশ্নে ইসরায়েলের অবস্থান আপাতত অপরিবর্তিত রয়েছে, যা অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

