ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন জোর আলোচনা চলছে, তখন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভবিষ্যতে যেকোনো চুক্তি হলে তা ২০১৫ সালের জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (JCPOA)-এর তুলনায় খুব বেশি উন্নত বা ভিন্ন হবে—এমন সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।

ওবামার মতে, সেই সময়ের চুক্তিটি দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল এবং এটি কার্যকরও ছিল, তবে পরে যুক্তরাষ্ট্র সেটি থেকে সরে আসে।

২০১৫ সালের ওই চুক্তির মূল কাঠামো ছিল—ইরান তার পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করবে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (IAEA) পরিদর্শনের সুযোগ দেবে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল এবং জব্দকৃত সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করা হয়।

ওবামা আরও বলেন, কূটনৈতিক সমাধান যুদ্ধ বা সামরিক পদক্ষেপের তুলনায় বেশি কার্যকর হতে পারে। তাঁর মতে, কেবল শক্তি প্রয়োগ বা সংঘাতের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পাওয়া কঠিন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন একটি চুক্তির লক্ষ্য হওয়া উচিত—যা পুরো সমস্যার শতভাগ সমাধান না করলেও অন্তত ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ঝুঁকি কমাতে পারে এবং যুদ্ধ এড়াতে সাহায্য করে।

এদিকে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি নতুন সমঝোতা কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন বা উৎপাদন থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার এবং উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম মজুদ সীমিত করার বিষয়ে সম্মত হতে পারে।

প্রস্তাবিত কাঠামোর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ইরানের ওপর থাকা কিছু অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিল করতে পারে এবং আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকতে পারে।

তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, ফলে চুক্তির বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে ইরান ইস্যুতে নতুন করে শুরু হওয়া এই কূটনৈতিক আলোচনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা ও কৌতূহল তৈরি করেছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version