মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে Pakistan ও Saudi Arabia–এর প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে সৌদি আরবে সেনা, যুদ্ধবিমান ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান।

বার্তা সংস্থা Reuters–এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে এই সামরিক মোতায়েন শুরু হয়। পাকিস্তান প্রায় ৮ হাজার সেনাসদস্যের পাশাপাশি একটি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রনও সৌদি আরবে পাঠিয়েছে। এসব বিমানের মধ্যে রয়েছে চীন ও পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি JF-17 Thunder যুদ্ধবিমান।

এছাড়া পাকিস্তান সৌদি আরবে চীনের তৈরি HQ-9 বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বর্তমানে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি Patriot missile system ও THAAD–এর পাশাপাশি চীনা প্রযুক্তির অস্ত্রও ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে দেশটি বহুমুখী কৌশল অনুসরণ করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সৌদি আরব ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা সহযোগিতা নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। ২০২৫ সালে কাতারের দোহায় হামাস নেতাদের ওপর হামলার পর দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সমন্বয় আরও জোরদার হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার সময় উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা বাড়ার পর সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তা জোরদারে মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে যায়। এ সময় পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়ানো হয়।

কিছু সৌদি বিশ্লেষক দাবি করেছিলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্কের কারণে সৌদি আরব কার্যত পাকিস্তানের “পারমাণবিক নিরাপত্তা ছাতার” আওতায় রয়েছে। যদিও এ ধরনের বক্তব্য নিয়ে ইসলামাবাদ প্রকাশ্যে সতর্ক অবস্থান নেয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই চুক্তির আওতায় সৌদি সীমান্ত নিরাপত্তায় আরও বড় আকারে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ও নৌ-সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা চলছে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে অস্থিরতা এবং লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ফলে সৌদি আরব আঞ্চলিক নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্কও এখন দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ায় ইসলামাবাদ-রিয়াদ সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version