
মাদক পাচারের সন্দেহে সমুদ্রে পরিচালিত মার্কিন সামরিক হামলাগুলোর বৈধতা ও কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের স্বাধীন পরিদর্শন সংস্থা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অভিযানে বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, লাতিন আমেরিকাভিত্তিক মাদক চক্র ও সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
তবে মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক আইন বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এসব হামলার বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মতে, যেসব নৌযানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সরাসরি সামরিক হুমকি ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে এসব অভিযান বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের মুখেও পড়তে পারে।
মার্কিন প্রশাসনের সমালোচকরা দাবি করছেন, অভিযানে ধ্বংস করা নৌযানগুলো সত্যিই মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল—এমন পর্যাপ্ত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে উপস্থাপন করা হয়নি। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে চাপ বাড়ছে।
পেন্টাগনের স্বাধীন পরিদর্শক কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে ইউএস সাউদার্ন কমান্ডের অধীন পরিচালিত যৌথ সামরিক অভিযানের বিভিন্ন ধাপ পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সামরিক বাহিনী নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হবে।
তদন্তে সামরিক অভিযানের তথাকথিত “জয়েন্ট টার্গেটিং সাইকেল” অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তাও মূল্যায়ন করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় লক্ষ্য নির্ধারণ, গোয়েন্দা তথ্য যাচাই, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং হামলার অনুমোদনসহ কয়েকটি ধাপ অন্তর্ভুক্ত থাকে।
জানা গেছে, তদন্ত কার্যক্রম পেন্টাগন সদর দপ্তরের পাশাপাশি ফ্লোরিডাভিত্তিক ইউএস সাউদার্ন কমান্ড কার্যালয়েও পরিচালিত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। আগে যেখানে সমুদ্রে সন্দেহভাজন নৌযান আটক ও মাদক জব্দের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো, সেখানে এখন সরাসরি সামরিক হামলার কৌশল সামনে আসছে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ