গণহারে অ্যাটাক ড্রোন উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই উচ্চাভিলাষী কর্মসূচির শুরুতেই বড় ধরনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে পেন্টাগন। মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে ড্রোন উৎপাদনে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের শক্তিশালী চুম্বক ও বিরল খনিজ উপাদান (রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট) নিয়ে, যার বৈশ্বিক সরবরাহের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে চীন। ফলে ড্রোন প্রযুক্তিতে চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এখন ওয়াশিংটনের জন্য নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ড্রোন উৎপাদন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। প্রথম ধাপে প্রায় ৩০ হাজার ‘ওয়ান-ওয়ে’ বা আত্মঘাতী ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ২০২৮ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৩ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে কম খরচের ড্রোনের কার্যকারিতা বিশ্লেষণের পর যুক্তরাষ্ট্র এই খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়িয়েছে।

স্বয়ংক্রিয় ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সামরিক প্রযুক্তির জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটে ইতোমধ্যে বিলিয়ন ডলারের তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিপুল অর্থায়নের পরও মূল সংকট থেকে বের হতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র। কারণ সামরিক ড্রোন ও উন্নত যুদ্ধ সরঞ্জামের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরিতে প্রয়োজনীয় বিরল খনিজের সরবরাহ এখনও ব্যাপকভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীল।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ড্রোন নয়, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্রের গাইডেন্স সিস্টেম, সেন্সর এবং সামরিক প্রযুক্তির হাজারো যন্ত্রাংশে ব্যবহৃত হয় এসব বিশেষ খনিজ। বিশেষ করে ডাইসপ্রোসিয়াম ও টার্বিয়ামের মতো ভারি রেয়ার আর্থ উপাদান উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল মোটর ও শক্তিশালী সামরিক গ্রেডের চুম্বক তৈরিতে অপরিহার্য। বর্তমানে এই খাতের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে চীনের হাতে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, কোনো কারণে চীন যদি এসব খনিজ রপ্তানি সীমিত বা বন্ধ করে দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন উৎপাদন কার্যক্রম বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।

এই নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। উত্তর আমেরিকায় নতুন খনি, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র এবং চুম্বক উৎপাদন শিল্প গড়ে তুলতে কয়েকটি পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে পেন্টাগন। দেশীয় উৎপাদকদের আর্থিক সহায়তা ও প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে।

তবে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সময়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি খনি অনুমোদন থেকে পূর্ণ উৎপাদনে যেতে প্রায় ৭ থেকে ১০ বছর সময় লাগে। ফলে স্বল্প সময়ে চীনের ওপর নির্ভরতা পুরোপুরি কমানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

সূত্র: গালফ নিউজ

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version