
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ও হয়রানি বন্ধের নিশ্চয়তা পেলে খুব শিগগিরই দেশে ফিরতে প্রস্তুত তিনি। তার ভাষায়, প্রয়োজনীয় আশ্বাস মিললে তিনি দুই দিনের মধ্যেই দেশে ফিরতে পারেন।
একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করার পর তিনি পুরো সময় রাজনীতিতে দিতে চান। সাবেক এই সংসদ সদস্য আরও জানান, রাজনৈতিক দলে পরিবর্তন আনার কোনো ইচ্ছা তার নেই এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থানেই থাকবেন।
দলীয় আনুগত্যের বিষয়ে সাকিব বলেন, ছোট দলেও খেলেছেন, কিন্তু কখনো দল বদলের অভ্যাস গড়ে তোলেননি। তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ করে রাখা সম্ভব নয় এবং গণতন্ত্রে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত।
রাজনীতিতে প্রতিহিংসার চর্চা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।
সাকিব আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মাগুরার মানুষ তাকে আবারও সমর্থন করবে বলে তার বিশ্বাস। তিনি আগামীতেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন, যদিও পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে জানান।
বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করা এই ক্রিকেটার বলেন, তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। তবে এজন্য তাকে সাধারণ নাগরিক হিসেবে নিরাপত্তা ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ কোনো সুবিধা নয়, বরং ন্যায্য আচরণই তার প্রত্যাশা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাগুরা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হন সাকিব আল হাসান। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তার সংসদীয় মেয়াদ শেষ হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে, যা মোকাবেলার জন্য দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি আগ্রহী হলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রধান বাধা হিসেবে দেখছেন।