আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস এলেও দেশের প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষের জীবনে এর প্রভাব খুব কমই পড়ে। অধিকাংশ দিনমজুরের কাছে দিনটি আর পাঁচটা দিনের মতোই—কাজ থাকলে খাবার, না থাকলে অনিশ্চয়তা।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার এক গ্রামের প্রবীণ দিনমজুর সনঞ্জু মিয়ার জীবন সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। প্রায় ৬৫ বছর বয়সেও প্রতিদিন তাকে কাজের সন্ধানে বের হতে হয়। তার কথায়, “আমরা গরিব মানুষ, কাজ করলেই পেটে ভাত যায়। দিবস দিয়ে আমাদের কী হবে?”
নদীভাঙনে হারানো সবকিছু
সনঞ্জু মিয়ার জীবন একসময় এমন ছিল না। তার পরিবারের ছিল জমিজমা ও গবাদিপশু। কিন্তু এলাকার নদীভাঙন বারবার তাদের ভিটেমাটি ও ফসলি জমি কেড়ে নিয়েছে। কয়েক দফা ক্ষতির পর এখন তিনি নিঃস্ব।
বর্তমানে দিনমজুরির আয়ে সাত সদস্যের সংসার চালান তিনি। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা, পরিবারের খরচ—সবকিছুই নির্ভর করে প্রতিদিনের আয়ের ওপর। কোনো দিন কাজ না পেলে খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়ে।
একই চিত্র বহু মানুষের
এই গল্প শুধু একজনের নয়। ওই অঞ্চলের অনেক মানুষ নদীভাঙনের কারণে জমি হারিয়ে এখন দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল। অনিশ্চিত আয় ও দারিদ্র্যের মধ্যে তাদের জীবন কাটছে প্রতিনিয়ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে।
নির্মাণশ্রমিক মনির উদ্দিনও একই বাস্তবতার কথা জানান। তিনি বলেন, “একদিন কাজ না করলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যায়। মে দিবস আমাদের জীবনে কোনো পরিবর্তন আনে না।”
নারী শ্রমিকদের বাড়তি সংগ্রাম
ইটভাটায় কাজ করা মরজিনা বেগমের জীবন আরও কঠিন। স্বামী অন্যত্র চলে যাওয়ার পর দুই সন্তান নিয়ে একাই সংসার সামলাচ্ছেন তিনি। জীবিকার জন্য তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হলেও সমান কাজের জন্য সমান মজুরি পান না।
তার ভাষায়, “পুরুষদের মতোই কাজ করি, কিন্তু মজুরি কম পাই। তারপরও বাচ্চাদের জন্য কাজ চালিয়ে যেতে হয়।”
দিন আনি, দিন খাই—এই বাস্তবতা
ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালক আব্দুল কাসেম বলেন, প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত গাড়ি চালিয়েই সংসার চলে। একদিন আয় বন্ধ থাকলে পুরো পরিবার বিপদে পড়ে।
তার মতে, শ্রমিক দিবস নিয়ে অনেক কথা শোনা গেলেও বাস্তবে এর প্রভাব তাদের জীবনে খুব একটা দেখা যায় না।

