ইসলামের দৃষ্টিতে দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, আর মৃত্যু হচ্ছে আখিরাতের পথে যাত্রার শুরু। পবিত্র কুরআন-এ বলা হয়েছে, পৃথিবীর সবকিছুই একসময় ধ্বংস হবে, কেবল আল্লাহর সত্তাই চিরস্থায়ী। একইভাবে প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে—এটি একটি অবধারিত সত্য।
এ কারণে ইসলামে মৃত্যুর সময় ঈমান অটুট রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষের শেষ অবস্থা দিয়েই তার আমলের মূল্যায়ন করা হবে—এ কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
তালকীন কী?
“তালকীন” বলতে বোঝায়—মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তির পাশে বসে আস্তে আস্তে কালেমা (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) পড়া, যাতে তিনি শুনে নিজে তা উচ্চারণ করতে পারেন।
কীভাবে তালকীন দিতে হবে
- মুমূর্ষু ব্যক্তির পাশে শান্তভাবে বসতে হবে
- জোরে নয়, বরং মৃদু স্বরে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” পড়তে হবে
- তাকে সরাসরি বলার বা চাপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই
- এমনভাবে পড়তে হবে যাতে তিনি শুনে নিজে বলতে উৎসাহিত হন
হাদিস অনুযায়ী, প্রবণতা মুহাম্মদ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন—মৃত্যুপথযাত্রীদের কাছে কালেমার তালকীন দিতে।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
- জোর করা যাবে না—এতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে
- বারবার “বলুন” বলা ঠিক নয়
- পরিবেশ শান্ত রাখা জরুরি
অতিরিক্ত আমল
মৃত্যুপথযাত্রীর পাশে কিছু আমল করা উত্তম, যেমন—
- সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করা
- তার জন্য দোয়া করা, যেন সহজে মৃত্যু হয়
- ঈমানের সঙ্গে মৃত্যু কামনা করা
দোয়ার গুরুত্ব
কাছাকাছি না থাকলেও তার জন্য দোয়া করা যায়। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্যের জন্য দোয়া করলে দোয়া করা ব্যক্তিও এর সুফল পেয়ে থাকেন।
সারসংক্ষেপ
মৃত্যুর সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঈমানের সঙ্গে দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া। তাই তালকীন দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো—মৃত্যুপথযাত্রী যেন জীবনের শেষ মুহূর্তে আল্লাহকে স্মরণ করতে পারেন এবং কালেমা উচ্চারণের সৌভাগ্য অর্জন করেন।
