দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা Shafiqur Rahman। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি তেলের অভাবে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট ও জনদুর্ভোগ নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব উপস্থাপন করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তেল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় অসুস্থ হয়ে তিনজন কৃষকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেট্রোলপাম্পে অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে থাকতে হচ্ছে, যার ফলে দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আগের তুলনায় বাস্তব পরিস্থিতি কিছুটা স্বীকার করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
সংসদে তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, পারস্পরিক দোষারোপ বা উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্যের পরিবর্তে গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন। দেশের স্বার্থে সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় তিনি জ্বালানি খাতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে অসাধু ব্যবসায়ী ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, সংকটের সময় কিছু অসাধু চক্র সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে, যা প্রতিরোধ করা জরুরি।
দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য তিনি একটি সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। এ লক্ষ্যে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। তার মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করা জরুরি।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বর্তমান সংকট মোকাবিলা সম্ভব।

