তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার আগেই সবচেয়ে বড় ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। সাম্প্রতিক সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ নিয়ে নতুন করে বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি বড় অংশ—প্রায় এক-পঞ্চমাংশ—এই প্রণালি দিয়েই যায়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই রুটে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চাইছে। চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই জলপথ কার্যত আংশিকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দামে দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, ভবিষ্যতে এখানে বিশেষ কর বা ফি ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না—যদিও এ ধরনের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।

সংঘাতের আগে প্রতিদিন শতাধিক জাহাজ এই পথে চলাচল করলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা অনেক কমে গেছে। বিভিন্ন শিপিং ডেটা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র কয়েক ডজন জাহাজ এই রুট ব্যবহার করছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক জাহাজ পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সতর্ক করেছে যে, এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ আরও ব্যাহত হবে এবং বাজারে মূল্য অস্থিরতা অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, বিপজ্জনক এই সমুদ্রপথে অনেক নাবিক আটকা পড়েছেন, যা মানবিক সংকটের দিকেও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version